তারিখ : ০১ জুন ২০২০, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

গৌরীপুরে ভিজিডি কার্ডে চাল বিতরণে অনিয়ম

গৌরীপুরে ভিজিডি কার্ডে পাঁচ মাসের বরাদ্দ প্রাপ্তির স্বাক্ষর নিয়ে চাল দিচ্ছেন তিন মাসের
[ভালুকা ডট কম : ০১ এপ্রিল]
ভিজিডি কার্ডে পাঁচ মাসের বরাদ্দ প্রাপ্তির স্বাক্ষর নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগী মহিলাদের চাল দেয়া হচ্ছে মাত্র তিন মাসের। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিডির চাল বিতরণ না করে তা বিতরণ করা হয়েছে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে।এ চাল বিতরণের বিষয়ে জানেন না স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা ও এনজিও কর্মী। বুধবার (১ এপ্রিল) ভিজিডির চাল বিতরণের এ অনিয়মের ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের হিম্মতনগর এলাকায়।

ভিজিডির সুবিধাভোগী হিম্মতনগর গ্রামের হালিমা খাতুন (৩৩), খোদেজা খাতুন (৪৪), বেগম (৫৪), নাছিমা খাতুন (৩৬), ফাতেমা খাতুনসহ (৪৪) আরো কয়েকজন জানান, ভিজিডি বরাদ্দের চাল উপকারভোগীদের মাঝে প্রতিমাসে বিতরণের নিয়ম থাকলেও তাদের মাঝে ৪/৬ মাস পর একত্রে বিতরণ করা হয়ে থাকে। সর্বশেষ তারা গত বছর অক্টোবর মাসে ভিজিডির বরাদ্দকৃত চাল পেয়েছিলেন।

তারা বলেন, বিগত সময়ে ভিজিডির চাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিতরণ করা হলেও রহস্যজনক কারনে বুধবার (১ এপ্রিল) তা বিতরণ করা হয় ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শ্রী রবেন বিশ্বাসের বাড়ি থেকে। চাল বিতরণকালে ভিজিডি কার্ডে পাঁচ মাসের বরাদ্দ প্রাপ্তির স্বাক্ষর নিয়ে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয় তিন মাসের চাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জানান, করোনা ভাইরাস বিস্তাররোধে ইউনিয়ন পরিষদে জনসমাগম ঠেকাতে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে নিজ ওয়ার্ড থেকে ভিজিডি চাল বিতরণ করেন তিনি।

পাঁচ মাসের বরাদ্দ প্রাপ্তির স্বাক্ষর নিয়ে তিন মাসের চাল বিতরণ করলেন কেন ? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বাকী দুই মাসের বরাদ্দের চাল এক সপ্তাহের মধ্যে ভিজিডি কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করে দিবেন।

২ নং গৌরীপুর ইউনিয়নে ভিজিডির তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুর রাশিদ ও সমন্বয়কারী এনজিও কর্মকর্তা কাকন সরকার জানান, ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে চাল বিতরণের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য তাদেরকে অবগত করেননি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা বেগম আকন্দ জানান, উল্লেখিত ইউনিয়নে ভিজিডি চাল উত্তোলনের ডিও যথাসময়ে দেয়া হয়েছে। বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও চেয়ারম্যান সাহেব নিয়মিত ভিজিডির চাল বিতরণের ব্যবস্থা করেননি।তিনি বলেন,ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে চাল বিতরণের বিষয়ে তাকে অবগত করা হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান,করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদে জনসমাগম ঠেকাতে ওয়ার্ড থেকে ভিজিডির চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি ও পরিষদের সকল মেম্বারগণ। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা শুরু হওয়ায় ভিজিডি’র বরাদ্দের বাকি চাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিতরণ করবেন বলে তিনি জানান।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে অনোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড ভিত্তিক ভিজিডি কার্ডধারীদের মাঝে পাঁচ মাসের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হবে। যাদের দুই মাসের বরাদ্দ বাকী রয়েছে তাদের চাল দিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর জানান, সুষ্ঠভাবে ভিজিডির চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৬১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই