তারিখ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর মহিশবাথান ঘাটে সিসি ব্লকে ধ্বস

মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর মহিশবাথান ঘাটে সিসি ব্লকে ধ্বস,অবৈধ ড্রেজার মেশিন কেটে ফেললেন গ্রামবাসীরা
[ভালুকা ডট কম : ২৮ অক্টোবর]
নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর মহিশবাথান ঘাটে অবৈধ খনন যন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে নদীর তলদেশ গভীর করে বালু উত্তোলন করায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের সিসি ব্লক আবারো ধ্বস দেখা দিয়েছে। এতে ওই গ্রামবাসীসহ মেয়েরা দলবদ্ধভাবে ড্রেজার মেশিন কেটে ফেলছেন এবং সিসি ব্লক এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ড্রেজার মেশিনের শ্রমিক ফরিদ হোসেন বাদি হয়ে সম্প্রতি মহিশবাথান এলাকার শরিফুল ইসলাম, এমদাদুল হক, বুলু, মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রামবাসী জানায়, বালু মহালের নীতিমালা অনুসারে সেতু, কালভাট, বাঁধ, সড়ক-মহাসড়ক বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা যাবে না। বালু দস্যুরা সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা করছে না। নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড মহিশবাথান ঘাটে ৫’শ মিটার সিসি ব্লক দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণ করেন। তার পরেও উপজেলা ভূমি অফিস বালু মহাল চিহ্নিত করেন মহিশবাথান ঘাট। যে কারনে বালু ব্যবসায়ীরা কোন কিছু তোয়াক্কা না করে সিসি ব্লক এরিয়ার মধ্যে ৮/১০ টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। এতে বাঁধ হুমকির মুখে পড়লেও তাদের কিছু যায় আসে না। নৌকা পারাপার ঘাটের দক্ষিণ পাশের্ কোন ড্রেজার মেশিন ছিল না। বর্তমান বালু ব্যবসায়িরা দক্ষিণ পাশের্ ৬ মাস পূর্বে ৩টি ড্রেজার মেশিন তীর সংলগ্ন স্থানে বসিয়ে অবাধে বালু তুলতে থাকলে আবারো সিসি ব্লক ধ্বসে পড়ে। নতুন করে সিসি ব্লক ধ্বসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসী বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রক্ষায় সিসি ব্লক এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গত ২০অক্টোবর নওগাঁ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর গণস্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে মহাদেবপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করে আসেন বলে গ্রামবাসীরা জানান। পরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলতে থাকলে গ্রামের মহিলারা দলবদ্ধভাবে নদী পার হয়ে ড্রেজার মেশিন কেটে ফেলে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানায়। আবারো একটি ড্রেজার মেশিন চালু করলে গ্রামে মহিলারা নদী পার হয়ে ঐ ড্রেজার মেশিন কেটে ফেলে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এ সময় গ্রামের মেয়েদের অশ্লীল কথা বার্তা বললে এক যুবককে মারপিট করেন মেয়েরা। পরে ড্রেজার মেশিনের শ্রমিক ফরিদ হোসেন বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মহিশবাথান এলাকার  শরিফুল, এমদাদুল, বুলু, মিজানুরসহ অর্ধশতাধিক লোকজনরে সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়,বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে এবং বাঁধ যদি ভেঙ্গে যায় এলাকার বাড়িঘর, অফিসসহ সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। সিসি ব্লকের আশেপাশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযোগ করে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখানে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন,বালু মহাল দেখভালের বিষয়টি আমার না, এটি দেখবেন ইউএনও। আমি মূলত আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি লক্ষ্য রাখি। আমাকে একটি অনুলিপি দিয়েছে গ্রামবাসী। সেখানে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা না হয়, এজন্য একজন অফিসারকে পাঠিয়েছিলাম দেখার জন্য। সেখান ড্রেজার মেশিন কর্তন এবং শ্রমিকদের মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আর কোন অঘটন যাতে না ঘটে আমরা লক্ষ্য রাখছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন,প্রায় ৩ মাস পূর্বে এলাকাবাসীর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য এসিল্যান্ডকে পাঠিয়েছিলাম। তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, বালু উত্তোলনের কারনে সিসি ব্লকের কোন ক্ষতি হচ্ছে না। তবে বর্তমানে যদি কোন ক্ষতি হয় আমি ২/১ দিনের মধ্যে নিজে তদন্ত করে দেখব। বর্তমানে সেখানে বালু তোলা বন্ধ আছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই