তারিখ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় ছাত্রীর চোখ হারানোর ঘটনায় থানা অভিযোগ

ভালুকায় সহপাঠীর আঘাতে ছাত্রীর চোখ হারানোর ঘটনায় থানা অভিযোগ
[ভালুকা ডট কম : ২৮ অক্টোবর]
ভালুকা উপজেলার ৬১নং আঙ্গারগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর সুবর্ণা আক্তার (১১) নামে এক ছাত্রীকে সহাপাঠীদের কাঁচির আঘাতে চোখ হারানোর ঘটনায় তাঁর বাবা আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে ৩জনের নাম উল্লেখ করে ভালুকা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর সোমবার জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নয়জন শিক্ষক স্কুলটিতে থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক তোফায়েল আহাম্মেদ ৫ম শ্রেণীর ৫৩জন শিক্ষার্থীর অনার্স পড়ুয়া ছাত্র সাঈম আহাম্মেদকে কোচিং ক্লাসের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেন। গণিত বিষয়ে কোচিং এর জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে তিনশত টাকা করে প্রধান শিক্ষক  কোচিং ফি আদায় করেন। প্রধান শিক্ষক গত ফ্রেব্রুয়ারী মাস থেকে এ কোচিং চালাচ্ছেন। স্কুলের ভবনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোচিং চলে। বিনিময়ে সাঈমকে মাসে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। কোচিং ক্লাস করে টাকা আদায়ের বিষয়টি উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন।

গতকাল ২৭ অক্টোবর “ভালুকায় স্কুলে কোচিং করতে এসে সতীর্থদের আঘাতে এক চোখ হারালো সুবর্ণা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর জেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল হক উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে তাঁকে বিষয়টি অবগত করানোর জন্য। উপজেলা শিক্ষা অফিসার জুয়েল আশরাফ ও ওই ক্লাস্টারের এটিইওকে নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শণ করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোচিং এর নামে ফি আদায়ের বিষয়টি সত্যতা পান এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বোরবার সুবর্ণা আক্তারের চোখের অপারেশন শেষ হওয়ার পর রাতে তার বাবা বাদী হয়ে সুবর্ণার সহপাঠী আসিফ মিয়া(১৪), রাব্বি (১২) ও মিজান(১২) এর নাম উল্লেখ করে ভালুকা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে প্রেক্ষিতে এস,আই কাজল ঘটনাস্থল পরির্দশণ করেন।

সাঈম আহাম্মেদ জানান, গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে শুক্কুর মাহমুদ নামে একজন ক্লাস নিতেন। আমি গত দুই মাস যাবত কোচিং ক্লাস নিচ্ছি হেড স্যার আমাকে মাসে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দেন। হেড স্যার কত টাকা আদায় করেন তিনিই ভালো জানেন।

প্রধান শিক্ষক তোফায়েল আহাম্মেদ জানান, আমি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা আদায় করি না। অভিভাবকরা কোনো মাসে টাকা দেন আবার কোনো মাসে দেন না। ৫৩জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮/১০জন অভিভাবক কোচিং ফি দিয়ে থাকেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার জুয়েল আশরাফ জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক আমি নিজেও ব্যথিত। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মেয়েটির চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছেনা। =ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, তদন্তের জন্য আমি ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠিয়েছি। ঘটনাটি সত্য।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদ কামাল জানান, মেয়েটি চিকিৎসার জন্য আমরা আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করবো। কোনো ক্রমেই যেন মেয়েটির চিকিৎসার কোনো ব্যত্যয় না ঘটে। কোচিং ফি আদায়ের বিষয়টির জন্য প্রধান শিক্ষককের কাছে কৈফিয়ত চাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।







সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই