তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

গৌরীপুরে নির্যাতনের পর স্ত্রীকে তাড়িয়ে দিলেন স্বামী

গৌরীপুরে যৌতুকের জন্য দফায় দফায় নির্যাতনের পর স্ত্রীকে তাড়িয়ে দিলেন স্বামী!
[ভালুকা ডট কম : ০১ অক্টোবর]
যৌতুক হিসেবে দু’লক্ষ টাকা দিতে না পারায় রোকেয়া খাতুন (১৯) নামে এক তরুনীর ওপর দফায় দফায় নির্যাতন চালানোর পর বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় যুবক নূরুল হক পাভেল (২৫) ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক দফায় দেন-দরবার হলেও ওই তরুনীকে ঘরে তুলে নেননি তার যৌতুকলোভী স্বামী। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী তরুনী তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামে। রোকেয়া খাতুন এ গ্রামের সুরুজ আলীর মেয়ে। স্বামী পাভেল একই গ্রামের প্রতিবেশী সুরুজ আলীর ছেলে।

রোকেয়া জানান, পাভেলকে ভালোবেসে গত ০৯/০৯/১৮ ইং তারিখ কাবিনমূলে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর পাভেলের বাবা-মা এ সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় নিজ বাপের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে একত্রে বসবাস শুরু করেন। জীবিকার তাগিদে কিছুদিন পর তারা নারায়নগঞ্জে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকুরি নেন। চাকুরির সুবাধে তারা নারায়নগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। সেখানে থাকা অবস্থায় পাভেলের বাবা-মা তাদের সম্পর্ক মেনে নেন এবং তাদেরকে বাড়িতে চলে আসতে বলেন। সেমতে রোকেয়া তার স্বামীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে এসে ঘর-সংসার শুরু করেন। সেখানে কয়েকদিন যেতে না যেতেই শ্বশুর-শ্বাশুড়ির যোগসাজসে স্বামী পাভেল তাকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে দু’লক্ষ টাকা এনে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তাকে বাড়ির উঠানে গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের পর শরীরে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেন পাভেল। এ অবস্থায় যন্ত্রণায় ডাক-চিৎকার করিলে প্রতিবেশী লোকজন তাকে উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য এ নির্যাতনের ঘটনায় সেসময় এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি দেন-দরবার হয়। এই দেন-দরবারের সিদ্ধান্তক্রমে আর নির্যাতন করবে না বলে তাকে ঘরে তুলে নেন পাভেল ও তার বাবা-মা। কিন্তু এর পরেও তার ওপর চলে দফায় দফায় অমানবিক নির্যাতন।

রোকেয়া আরো বলেন, যৌতুকের টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সর্বশেষ ১৮/০৯/১৯ তারিখ দুপুরে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি সকলে মিলে বেধড়কভাবে পিঠিয়ে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এদিকে দফায় দফায় নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ৩টি দেন-দরবার হলেও দরবারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেন তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি। তাই নিরুপায় হয়ে তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪৪৭)।

স্থানীয় নূরুল ইসলাম, হাসিম উদ্দিন সরকারসহ আরো কয়েকজন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রোকেয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সামজিকভাবে এলাকায় ৩টি দেন-দরবার হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই রোকেয়ার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি দরবারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসছেন।এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে পাভেলের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলে সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অপরাধ জগত বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯২৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই