তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে বিদ্যালয় কমিটি গঠন নিয়ে অন্ত:দ্বন্দ্ব

রাণীনগরে বিদ্যালয় কমিটি গঠন নিয়ে অন্ত:দ্বন্দ্ব,ভেঙ্গে পড়েছে পাঠদানের পরিবেশ
[ভালুকা ডট কম : ০২ সেপ্টেম্বর]
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের বড়খোল উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে গ্রামবাসী, কমিটির অন্যান্য সদস্য, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মাঝে অন্ত:দ্বন্দ্ব চরমে রূপ নিয়েছে। এতে করে ওই বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান না করে গোপনে কমিটি গঠন করায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অভিভাবকদের ভোটের মাধ্যমে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নির্বাচন করা হয় এবং পরে নির্বাচন করা সভাপতি। বিদ্যালয়ে গত বছরের আগস্ট মাসের ৭তারিখে ভোটের মাধ্যমে কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সভাপতি নির্বাচিত করার লক্ষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির উদ্দিন তার পছন্দের লোককে সভাপতি করতে না পারায় সভা অসমাপ্ত রয়ে যায়। এরপর ১৫আগস্টে বিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু দিবস পালন না করে প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থী সেফাতুল্লা সরদারের বাড়িতে নির্বাচিত সদস্যদের বাদ দিয়ে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কাকতালীয় ভাবে সেফাতুল্লা সরদারকে সভাপতি নির্বাচিত করে কমিটি ঘোষনা করেন। কমিটির রেজুলেশন খাতায় শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেন ১৩তারিখে আর প্রধান শিক্ষক কমিটি ঘোষনা করেন ১৫আগস্ট।

এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও কমিটির নির্বাচিত সদস্য আতাউর রহমান বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবর মাসের ২তারিখে আদালতে প্রধান শিক্ষক, সভাপতি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৬৮/২০১৮। মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি না হলেও প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি গোপনে বিদ্যালয়ে অবৈধ ভাবে লোক নিয়োগ দেয়াসহ পেশীবলের জোরে নানা কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এতে করে কমিটির অন্যান্য সদস্য, গ্রামবাসী, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এক অংশ, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মধ্যে অন্ত:দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারন করেছে। এতে করে ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পাঠদানের পরিবেশ।

মামলার বাদী, অভিভাবক ও কমিটির নির্বাচিত সদস্য আতাউর রহমান বলেন আমি জানি না আদালতে মামলা চলমান থাকায় এই অবৈধ কমিটি কিভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বর্তমান সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছে মাফিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। প্রধান শিক্ষকের কারণে অন্ত:দ্বন্দ্বটি দিন দিন চরম আকার ধারন করছে। আমরা অভিভাবকরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ চাই।

অভিভাবক সদস্য আমিনুর ইসলাম, বেলাল হোসেনসহ অনেকেই বলেন প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি তাদের ইচ্ছেমাফিক প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। যার কারণে এই বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে কয়েকটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীরা এক পক্ষ, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকরা এক পক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি এক পক্ষ হওয়ায় অন্ত:দ্বন্দ্ব এখন চরমে। যার কারণে বিদ্যালয়ে কখনো পুরো সময় পাঠদান করানো হয় আবার কখনো অর্ধেক সময়। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা এই অন্ত:দ্বন্দ্বের কারণে পাঠদান চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে আর ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে এলাকার শিক্ষার্থীরা। অতিদ্রুত এই সমস্যা সমাধান করা না হলে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম মুখথুবড়ে পড়বে।

প্রধান শিক্ষক জাকির উদ্দিন বলেন রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন। আর বোর্ড থেকে কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছে যার কারণে বর্তমান কমিটি সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন মামলার প্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ড আদালতের কাছে একটি প্রতিবেদন চায়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বোর্ড সেই কমিটিকে অনুমোদন প্রদান করেছে।  আর আমি নিয়ম মেনেই কমিটির রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করেছি। এরপর প্রধান শিক্ষক কি করেছে তা আমার জানা নেই।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৮৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই