তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

শিশু নিগ্রহ (নির্যাতন) বা চাইল্ড এবিউজিং

শিশু নিগ্রহ (নির্যাতন) বা চাইল্ড এবিউজিং
[ভালুকা ডট কম : ০৯ জুলাই]
কারোর দ্বারা কোন শিশুর প্রতি শারীরিক, যৌন, বা মানসিক দুর্ব্যবহার বা অবহেলা করাকে শিশু নিগ্রহ বা চাইল্ড এবিউজিং বলে। সেটা হতে পারে বাড়িতে, কোন প্রতিষ্ঠানে, স্কুলে, যানবাহনে বা কোন সম্প্রদায়ে যেখানে শিশুটি অবস্থান করে।

শিশু নির্যাতনের প্রকারভেদ:
(১) শারীরিক, (২) মানসিক, (৩) অবহেলাজনিত ও (৪) যৌন নির্যাতন।
শিশু যৌন নির্যাতনে কোন ব্যাক্তি বা শ্রেণি একটি শিশুকে তার অতৃপ্ত বা অপূর্ণ যৌন বাসনা পূরণে ব্যবহার করে থাকেন।যেমনঃ শিশু পর্নগ্রাফি, শিশুর যৌনাঙ্গে জোরপুর্বক বা ফুসলিয়ে কোন কিছুর প্রবেশ, শিশুর গায়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ছুঁয়ে দেয়া, শিশুকে জোরপুর্বক কারো যৌনাংঙ্গে ধরতে বাধ্য করা, কাপড় বদলের সময় ইচ্ছাকৃত শিশুর শরীরে চোখ বুলানো ও শিশুর সাথে যৌন সঙ্গম। শুধুমাত্র মেয়েরাই নয় ছেলেরাও যৌন নির্যাতনের শিকার। অপরাধগুলো, বেশীর ভাগই আমাদের নিকট আত্বীয় দ্বারা হয়।

শিশু যৌন নির্যাতনের কারন:
অশিক্ষা, দারিদ্র্য, নেশা, হতাশা ও তিক্ত যৌন অভিজ্ঞতা। Save the Children এর সমীক্ষায়, দেশের ৫০% শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার। এর ৯১% যৌন নির্যাতন পরিবারের আত্বীয়দের দ্বারা সংগঠিত হয়।

যৌন নির্যাতনে শিশুর জটিলতাঃ
আত্ববিশ্বাস কমে, জাগতিক আনন্দ হতে নিজেকে সরিয়ে রাখে, পুরুষের প্রতি বিরুপ প্রতিক্রিয়া, সম্পর্কের উপর আস্থা হাড়ানো, সমকামীতা, অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়ানো, নেশাগ্রস্থ হওয়া, পড়াশোনায় অনিহা, অপরাধে স্বাচ্ছন্দবোধ, বিষন্নতা, নিজেকে অপরাধী ভাবা, অসামাজিক হওয়া ও বিভিন্ন মানসিক অসুস্থতা।

প্রতিটি মা-বাবাকে তার সন্তানের প্রতি সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ হতে হবে যেন সন্তানটি যে কোন সমস্যায় মা-বাবাকে ভয় বা সংকোচ না করে, শেয়ার করে।সন্তানকে সময় দিতে হবে। আন্তরিক হতে হবে। সম্তানের সাথে বিশ্বস্ততার বন্ধন গড়ে তুলতে হবে যেন শিশু সন্তানটি এবিউজ হলেও, সারা জীবন মনে পোষণ করে নিজেকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে। সন্তানকে বুঝাতে হবে সে বড় হচ্ছে, সেই সাথে অনেক ভয়ংকর পৃথিবীর সাথে মিশে যাচ্ছে সে। সেখান থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা জরুরী। বুঝাতে হবে যে সবার মত তার ও কিছু পার্সোনাল জায়গা রয়েছে শরীরে যেখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ। যতদিন মা-বাবা সচেতন না হবে, ততদিন শিশু যৌন নির্যাতন কমবে না। অপরাধের শুরু আছে। শেষ নেই। সচেতনা ও সঠিক পরিচালনায় পারে কেবল অপরাধকে দমাতে।

শিশু নিগ্রহের প্রতিকার:
শিশুকে দূর সম্পর্কের কোনো আত্মীয়ের কোলে বসতে না দেওয়া, কোন ধরণের খেলা সে খেলছে সেদিকে লক্ষ্য রাখা, দূরের আত্মীয়ের সাথে কোথাও যেতে না দেওয়া ও শিশু বিশেষ কোন প্রাপ্ত বয়স্কের ভক্ত হয়ে উঠেছে কিনা। শিশুকে বয়ঃসন্ধি ও যৌন মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া জরুরী। সন্তানকে সতর্ক করে দিন যেন শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে কেউ স্পর্শ করতে না পারে। সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, আপনার সচেতনতাই দিতে পারে আপনার শিশুর নিরাপত্তা!#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯২৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই