তারিখ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে অসন্তোষ

রাণীনগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে অসন্তোষ
[ভালুকা ডট কম : ২৮ জুন]
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বর্তমানে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার কারণে দেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনকে শক্তিশালী করা, বেগম জিয়াকে মুক্ত করা, আগামীর আন্দোলনকে আরো ত্বারান্বিত করাসহ বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার তাগিদে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক নতুন করে ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের সমন্বয়ে ওযার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পুরাতন কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে গঠন করা হচ্ছে আহ্বায়ক কমিটি। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৪সালের শেষের দিকে গঠন করা রাণীনগর উপজেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে গত ১৭জুন রাণীনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি তৃণমূল নেতাদের নিয়ে একটি সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ সেখানে কমিটি ঘোষনা না দিয়ে সভা সমাপ্ত করে দেন। গত ২৫জুন রাণীনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রোকুনুজ্জামান খাঁ (রুকু) কে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাষ্টার মো: হাফিজুর রহমানসহ একাধিক সদস্যের স্বাক্ষরিত ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও এই কমিটিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও। এতে করে উপজেলা বিএনপিসহ তৃর্ণমূল বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো সুসংগঠিত না হয়ে চরম বিশৃঙ্খলার সম্মুখিন হবে বলে মনে করছেন তৃর্ণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতা ও কর্মীরা।

তৃণমূল পর্যায়ে নেতা ও কর্মীরা জানান, আহ্বায়ক কমিটির ১২-১৪জন সদস্যরা উপজেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন যাবত নিষ্ক্রিয়। প্রায় ১দশক এই সব সদস্যদের আমরা কখনো বিএনপি রাজনীতির বিপদের সময় পাশে পাই নাই। যারা মাদকসেবী তাদেরকে জায়গা দেওয়া হয়েছে এই কমিটিতে। যে সব নেতারা দু:সময়ে বিএনপির হাল ধরেছিলেন, যারা ছিলেন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা, যারা তৃণমূল বিএনপিকে কঠোর হাতে আগলে রেখেছিলেন, যাদেরকে তৃর্ণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পছন্দ করেন, রাজপথের আন্দোলনে যারা সামনের সাড়িতে থেকে আমাদেরকে উৎসাহ যুগিয়েছেন আমরা চেয়েছিলাম তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিছন্ন ও সর্বজন সমাদৃত একটি যোগ্য আহ্বায়ক কমিটি উপহার পাবো যে কমিটির নেতৃত্বে আমরা আগামীতে বেগম জিয়াকে কারামুক্ত করা ও দেশের গনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। আমাদের দেওয়া মতামত ও চাওয়ার কোন প্রতিফলন ঘঠেনি এই কমিটিতে। এই কমিটি হচ্ছে জেলা বিএনপির পকেট কমিটি। এই কমিটিতে প্রকাশ পেয়েছে জেলা বিএনপির স্বজনপ্রীতি। তারা চায় না রাণীনগর উপজেলা বিএনপি আবার আগের মতো জ্বলে উঠুক ও সুসংগঠিত হোক। এই জন্যই তারা আমাদেরকে একটি বিতর্কিত কমিটি উপহার দিয়েছেন। আমরা এই কমিটি চাই না। আমরা চাই সবার চাওয়া ও মতামতের ভিত্তিতে গঠিত একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর কমিটি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোকলেছুর রহমান বাবু বলেন, এই কমিটিতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের তৃণমূল নেতাদের আশা-আঙ্খাকা ও চাওয়ার কোন মূল্যায়ন করা হয়নি। সাধারন সভায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতা ও কর্মীদের যে মতামত নেওয়া হয়েছিলো এই কমিটিতে তার বিন্দুমাত্র কোন প্রতিফলন ঘটানো হয় নাই। যার কারণে তৃণমূল থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের বিএনপি নেতা ও কর্মীরা এই কমিটিতে চরম হতাশ ও অসন্তোষ। জেলা বিএনপির নেতারা আমাদের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রভাবিত হয়ে তারা এই খামখেয়ালীপনা কমিটি গঠন করেছেন যে কমিটির মাধ্যমে উপজেলার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতারা বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না ।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএম আল ফারুক জেমস বলেন এই কমিটি উপজেলা বিএনপিকে নতুন করে ধ্বংস করার লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে। যে কমিটিতে স্থান পায় বিএনপিতে দীর্ঘদিনের নিষ্কিয় নেতারা, যে কমিটিতে চাঞ্চল্যকর আমজাদ মাষ্টার হত্যার প্রকাশ্য খুনির নাম স্থান পায় সে কমিটি দ্বারা আমরা আর কি পেতে পারি? বিএনপিতে আমার দীর্ঘ ৪০বছরের রাজনীতির জীবনে এমন স্বজনপ্রীতির কমিটি কখনই দেখিনি। এই কমিটিতে আমাদেরসহ তৃর্ণমূল নেতাদের চাওয়া-পাওয়া ও মতামতকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হয়নি।

জেলা বিএনপির নেতারা ব্যক্তি স্বার্থ হাছিলের জন্য ও উপজেলা বিএনপির সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মধ্যে নতুন করে ভাঙ্গন ধরানোর জন্যই এমন উদ্দেশ্য প্রণোদিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। এতে করে উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের তৃর্ণমূল পর্যায়ে নতুন করে ভাঙ্গনের সুর বেজে উঠবে। এতে করে আগামীর আন্দোলনে উপজেলা বিএনপির কর্মকান্ড বেগবান ও শক্তিশালী না হয়ে নেতাদের অন্ত:দ্বন্দ্বের কারণে মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

রাজনীতি বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই