তারিখ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় মাকে হত্যার পর মেয়েকে ধর্ষণ,ঘাতক আটক

নওগাঁয় মাকে গলাকেটে হত্যার পর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কিশোরীকে ধর্ষণ,ঘাতক আটক
[ভালুকা ডট কম : ১৮ জুন]
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মাকে গলাকেটে হত্যার পর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সামিউল ইসলাম ওরফে সাগর (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধুর নাম নাসিমা আক্তার ওরফে সাথী (৪০)। তিনি দ্বারিয়াপুর গ্রামের এমদাদুল হকের স্ত্রী।

আটক সামিউল ইসলাম গৃহবধু নাসিমা আক্তারকে হত্যার পর তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। আটক সামিউলের বাড়ি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের চকশ্যামরা গ্রামে। হত্যার খবর পেয়ে সোমবার রাতেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত গৃহবধুর লাশ ও ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করে মান্দা থানা পুলিশ। ওই কিশোরী বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আটক যুবক সামিউল ও ধর্ষণের শিকার কিশোরীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, নিহত গৃহবধু নাসিমা আক্তারের ছোট  মেয়ে রিমা আক্তার (১৮) উপজেলার মান্দা মমিন শাহান ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। রিমার সঙ্গে সঙ্গে সামিউলের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। সম্প্রতি সেই সর্ম্পকে টানাপোড়ন শুরু হয়। সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রিমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সামিউল একটি চাকু নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যায়। সামিউল বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে ছাদে উঠে। ছাদের দরজা দিয়ে ওই কিশোরীর বাড়িতে ঢোকে কিশোরীর শোবার ঘরের দরজায় কড়া নাড়লে দরজা খুলে বের হয় কিশোরীটি। এ সময় তাঁদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তাঁদের কথা কাটাকাটির শব্দে ওই কিশোরীর মা নাসিমা জেগে উঠেন। এ সময় সাগরের কাছে থাকা চাকু দিয়ে গৃহবধু নাসিমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করে সামিউল। ওই কিশোরী তাঁর মাকে রক্ষা করলে তাঁকেও চাকু দিয়ে আঘাত করে আহত করেন। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নাসিমার কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান সামিউল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সামিউলের দেওয়া বক্তব্যের বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, অপরাধকর্ম সংঘটিত করে পায়ে হেঁটে বুড়িদহ খেয়াঘাটের বাঁশের সাকো দিয়ে নদী পার হয়ে সামিউল গ্রামের বাড়িতে চলে যান। নদী পার হওয়ার সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকুটি নদীতে ফেলে দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ওই হাসপাতালেই ধর্ষনের শিকার কিশোরী ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো এখনও পাওয়া যায়নি। আটক সামিউলকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

নিহত গৃহবধুর স্বামী এমদাদুল হক নাটোর শহরে একটি ফার্মে নৈশপ্রহরীর কাজ করেন। এমদাদুল হক বলেন, সোমবার রাতে তিনি নাটোরের ফার্মে ডিউটিতে ছিলাম। গ্রামের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী নাসিমা ও ছোট মেয়ে থাকতেন। গভীর রাতে প্রতেবেশিদের ফোনে তিনি জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী খুন হয়েছেন। খবর পেয়ে রাতেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অপরাধ জগত বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই