তারিখ : ২১ জুন ২০১৯, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় আদম বেপারীর খপ্পরে পড়ে সর্বহারা সিরাজুল

নওগাঁয় আদম বেপারীর খপ্পরে পড়ে পরিবার নিয়ে পথে পথে ঘুরছে সিরাজুল
[ভালুকা ডট কম : ১৬ মার্চ]
নওগাঁ সদর উপজেলার ফারাদপুর গ্রামের মৃত-মিরাজ শাহের ছেলে দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম। দিনমজুরীর পেশা ছেড়ে সে স্বপ্ন দেখে বিদেশ গিয়ে পরিশ্রম করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভবিষ্যতে স্বচ্ছ জীবন-যাপন করবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ হয় জেলার মহাদেবপুর উপজেলার বাগাচারা গ্রামের মৃত-মোবারক আলী মন্ডলের ছেলে আদম বেপারী ওয়াহেদ আলী মন্ডলের সঙ্গে।

নিজের মাথা গোজার বসতবাড়ী, শ্বশুর বাড়ির জমিজমা বিক্রি করে একং একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিস্তির মাধ্যমে আদমবেপারীকে ১৬ লাখ টাকা দেয় সিরাজুল ইসলাম। এর প্রমাণ হিসেবে আদমবেপারী সিরাজুলকে ১৬লাখ টাকা মূল্যে একটি ফাঁকা চেক প্রদান করে। আজ নয়তো কাল এভাবে বছর পার হলেও সিরাজুলকে বিদেশ নিতে পারে না আদমবেপারী ওয়াহেদ। পরবর্তি সময়ে গ্রামে একাধিক বৈঠক করেও যখন সিরাজুল তার টাকা তুলতে পারছিল না তখন সে ফাঁকা চেক দিয়ে আদালতে একাধিক মামলা করে। সেই মামলাগুলো বর্তমানে চলমান। এমতাবস্থায় মামলাগুলো তুলে নেওয়ার জন্য প্রভাবশালী আদমবেপারী বিভিন্ন রকম হুমকী-ধামকী প্রদান করছে সিরাজুল ইসলামকে। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিরাজুল নওগাঁ সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী দায়ের (জিডি নং ৪৬৫) করলেও আদমবেপারী সিরাজুলকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আদালতে আসতে দিচ্ছে না। এদিকে আদমবেপারীর খপ্পরে পড়ে সিরাজুল এখন পথে পথে ঘুরছে। বিভিন্ন এলাকার মানুষের বাড়িতে বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে ও ভটভটি চালিয়ে কোন ভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনানিপাত করছে। সংসারের অভাব মোচনের জন্য সিরাজুলের স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজও করছে।

দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম বলেন গরীব সংসারের ভবিষ্যতের সুখের কথা ভেবে আমি সবকিছু শেষ করে বিদেশ যাওয়ার জন্য আদমবেপারীকে টাকাগুলো দিয়েছিলাম। কিন্তু আদমবেপারী যে আমাকে ও আমার পরিবারকে এভাবে পথে বসাবে তা আমি ভাবতেও পারিনি। টাকা পরিশোধ হওয়ার পর জানতে পারছি যে আদমবেপারী ওয়াহেদ আমার মতো শতাধিক মানুষকে এভাবে ঠকিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে শত শত মামলা চলমান। কিন্তু সে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ তার কোন কিছু করতে পারে না। এখন আমি পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো। এদিকে আদমবেপারী আদালতের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়-ভীতি প্রদান করছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি সরকার ও প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই।

সিরাজুলের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন বর্তমানে আমার ৭ম শ্রেণিতে ও ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই সন্তান নিয়ে মানুষের বারান্দায় রাত্রি যাপন করছি। আদমবেপারীর প্রলোভনে বসতবাড়ীসহ সবকিছু বিক্রি করে আজ আমরা পথের ফকির হয়ে গেছি। স্বামী ও আমি মানুষের দিনমজুরী কাজ করে কোন মতে বেঁচে আছি। তার উপর আবার আদমবেপারীর বিভিন্ন হুমকি-ধামকী প্রদান। সবকিছু মিলে এখন আমরা যাযাবর হয়ে গেছি। তাই আমরা বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা চাই।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার দেবেন্দ্রনাথ বলেন আদমবেপারীর এই বিষয়ে আমরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বৈঠক করেছি। কিন্তু আদমদবেপারী প্রভাবশালী হওয়ায় সে আমাদের বিচার মানতে চায় না। আদমবেপারী নাকি উল্টো সিরাজুলের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যে মামলা করেছে। এই আদমবেপারীর খপ্পরে পড়ে এলাকার অনেক গরীব-অসহায় মানুষ আজ পথের ফকির হয়ে গেছে। বিদেশ পাঠানোর নাম করে টাকা নিয়ে আর বিদেশ পাঠায় না। পরবর্তিতে তাদের কিছু কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকাগুলো আর পরিশোধ করে না। এটাই হলো আদমবেপারী ওয়াহেদ আলীর মূল ব্যবসা। এদেরকে সঠিক আইনের আওতায় উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা খুবই প্রয়োজন। কারণ এরা অসহায়-গরীব মানুষকে শুধু ঠকায়।

আদমবেপারী ওয়াহেদ আলী মন্ডলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নওগাঁর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, আদমবেপারীর বিরুদ্ধে আদালতে এই রকম কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জীবন যাত্রা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই