তারিখ : ২২ মে ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সংকটে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সংকটে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান
[ভালুকা ডট কম : ১৪ মার্চ]
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মির্জাপুর কেসি উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সংকটে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে, অপরদিকে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়ছে। এতে করে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সমস্যাটি নিরসনে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯৬৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। বর্তমানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ে চাকুরি করছেন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টির শ্রেণীকক্ষ ও অবকাঠামো সংকটের কারণে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ৩শত ৮৮ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে। এর মধ্যে ছাত্র ১শত ৮৫ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ২শত ৩ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১১জন এবং কর্মচারী চারজন।

একটি দ্বিতীয় তলা ভবনের মোট কক্ষসংখ্যা ৯টি। এরমধ্যে শ্রেণীকক্ষ ৫টি, কম্পিউটার ল্যাব ১টি, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ১টি, সহকারী শিক্ষকদের কক্ষ ১টি, ছাত্রীদের কক্ষের (কমন রুম) আংশিক ও লাইব্রেরী ১টি। ২০১৬ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ৪ জন ও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ২জন এবং ২০১৭ সালে জেএসসিতে ২জন ‘এ’ প্লাস পেয়েছে। ২০১৮ সালে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ পাশ।

দীর্ঘদিন থেকে শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষকদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। শীত মৌসুমে আবহাওয়া ভাল থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন সময় প্রচন্ড রোদের তাপে গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টি এলে বাহিরে আর ক্লাস করা সম্ভব হয় না। নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ এবং ইসলাম শিক্ষা ও হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বিষয়গুলো যখন আলাদা ভাবে পাঠদান করানোর দরকার হয় তখন আর শ্রেণীকক্ষে করানো সম্ভব হয় না। ফলে বেশির ভাগ সময় খোলা আকাশের নিচে ফাঁকা মাঠে শিক্ষকদের পাঠদান করাতে হয়।

আবার কখনো প্রধান শিক্ষকের অফিসে ও কমনরুমেও পাঠদান করতে হয়। এছাড়া অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা (৭০জন) বেশি হওয়ায় একই বেঞ্চে ৬-৭ জন করে গাদাগাদি করে বসতে হয়। হৈচৈ পেছনে থেকে ছাত্ররা ক্লাশের পড়া বুঝতে পারে না। মোট কথায় শ্রেণীকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীদের যেমন পড়াশুনার বিঘ্ন হচ্ছে। তেমনি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ছে তারা।

দশম শ্রেণীর মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন, জাকিয়া সুলতানা ও শ্রাবন কুমার সহ কয়েক বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে মাঠে ক্লাস করতে হয়। শীতের সময় মাঠে ক্লাশ করা সম্ভব হলেও গরমের সময় রোদের তাপে সম্ভব হয়না। অনেক সময় বৃষ্টি আসলে আর ক্লাস করা হয়না। এছাড়া বিদ্যালয়টি রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় ট্রাক ও বাসের হর্ণের শব্দে ক্লাসে মনোযোগ আসেনা। কিছুদিন পর আমরা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাব কিন্তু পরবর্তীতে যারা আসবে তাদের যেন আর মাঠে ক্লাস করতে না হয়। এজন্য সমস্যাটি নিরসনে দ্রুত নতুন ভবনের দাবী জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে আমার অফিসেও পাঠদান করতে হয়। একদিকে যেমন পাঠদানে বিঘ্ন হচ্ছে, অপরদিকে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে না পারায় পিছিয়ে পড়ছে। এ বিষয়গুলো স্থানীয় সাংসদকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ আমরা দেখতে পাইনি। সমস্যাটি নিরসনে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগ বলেন, বিষয়টি অবগত আছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদের সুপারিশ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবার একটা দরখাস্ত দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই