তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় আমন ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কারে ব্যাস্ত নারী শ্রমিক

ভালুকায় আমন ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কারে ব্যাস্ত নারী শ্রমিক
[ভালুকা ডট কম : ১৮ আগস্ট]
ভালুকার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের ঘাম ঝড়ানো আমন ধানের দিগন্তজুরা মাঠ ভরে উঠেছে সারি সারি সবুজ পাতার আবিরে আর মাঝখানে ভর দুপুরে আগাছা পরিষ্কার করছেন কোমড়ে শাড়ীর আঁচল গোঁজা আছিয়া সহ ওরা ক’জন নারী শ্রমিক।

গত প্রায় একমাস যাবৎ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামের মাঠে মাঠে শুরু হয় আমন ধান  রোপন। কোন কোন এলাকায় এখনও আউশ ধান কেটে ক্ষেত তৈরী করে বিলম্বে আমন ধানের চারা রোপন চলছে। যারা মৌসুমের প্রথমেই ক্ষেত তৈরী করে আমন ধানের চারা রোপন করেছেন তাদের ক্ষেতের ধান গোছা হয়ে সবুজ রং ধারণ করেছে। ওইসব ধানক্ষেতে আগাছা বাছাই, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের সময় হওয়ায় চারিদিকে শ্রমিকের চাহিদা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ আমন ক্ষেতে আগাছা বাছাইয়ের কাজ করছেন নারী শ্রমিকরা। কারন হিসেবে কৃষকরা জানান বর্তমানে ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর মিল ফ্যাক্টরীতে কাজ পাওয়ায় কৃষি কাজে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে ফলে এখন মাঝ বয়সী গরীব নারী শ্রমিকরা ক্ষেতে খামারে কৃষি কাজ করছে তাও সংখ্যায় খুবই কম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে আমন ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন কয়েকজন নারী শ্রমিক। এদের মধ্যে  একজনের নাম আছিয়া খাতুন। তিনি জানান নিজের খেয়ে ৩০০ টাকা রোজ তারা কাজ করেন। এতে তাদের দিন খুব কষ্টে কাটে। তার  দুই সন্তান স্কুলে পড়ে। ক্ষেতে খলায় কাজ না করলে বেঁচে থাকার কোন পথ নাই তাই বাধ্য হয়েই কম মজুরীতে তারা গৃহস্তের ক্ষেতে খলায় কাজ করে থাকেন।

এদের মধ্যে ছোলেমন নামে একজন দুঃখ করে বলেন “বেটাগো দুই বেলা খিলাবার দিয়া ৪/৫শ ট্যাহা রোজ দিয়ন নাগছাল আর আমাগো বেটি মানুষ তাই একবেলা নাওয়া খাওয়া নাই, তিনশ টেহা হাতে ধরাই বিদায় করছাল”। অর্থাৎ পুরুষ শ্রমিকদের ২ বেলা খাবার দিয়ে ৪/৫শ টাকা রোজ মজুরী দেয় আর তাদেরকে সারাদিন খাটিয়ে বিনা খাবারে মাত্র ৩০০ টাকা মজুরী দিয়ে বিদায় করেন গৃহস্থরা।

উপজেলার হবিরবাড়ী লবন কোঠা গ্রামের কৃষক আব্বাছ উদ্দীন জানান নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে তিনি প্রায় ৪ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। জমি চাষ, পানি সেচ, বীজতলা তৈরী ও চারা রোপন সহ এ পর্যন্ত প্রতি কাঠায় দুই হাজার টাকার উপরে খরচ হয়েছে এখন চলছে আগাছা বাছাইয়ের কাজ। সামনে পোকার আক্রমন হলে কীটনাশক প্রয়োগ জরুরী হয়ে পরবে। তবে তিনি জানান যদি রোগ বালাই কিংবা খড়া না হয় এ বছর মাঠে আমনের ফসল ভাল হবে বলে মনে হচ্ছে। হবিরবাড়ী ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান ওই ব্লকে আউশের পর প্রায় ৪২০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে মাঠ পর্যায়ে ধানের গ্রোথ ক্ষুবই ভাল।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে এ বছর ভালুকা উপজেলায় আমনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৫৮৫ হেক্টর। এর মধ্যে উফসী জাত ১৯০৯৫ হেক্টর হাইব্রীড ৪০ ওহক্টর। এছারাও ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আবাদ করা হয়েছে। উত্তোরণ ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। আগষ্টের জন্য ইউরিয়া সার বরাদ্ধ রয়েছে ৭৫৬ মেঃ টন, সজুদ আছে ৪০৫ মেঃ টন এছারাও নন ইউরিয়া পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই