তারিখ : ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

প্রানের উৎসবের প্রতিক্ষায় দিনগুনা

ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে কবি নজরুলের ১১৯ তম জন্মজয়ন্তী
প্রানের উৎসবের প্রতিক্ষায় দিনগুনা
[ভালুকা ডট কম : ২৪ মে]
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১১৮ তম জন্মজয়ন্তীর  শুক্রবার থেকে তিনদিন ব্যাপি উৎসব পালিত হবে। এই দিনটি ত্রিশালবাসীর জন্য অত্যন্ত  আনন্দের দিন। “নজরুল জন্মজয়ন্তী ও নজরুল গ্রামীণমেলা” এই প্রানের উৎসবের প্রতিক্ষায় দিনগুনে এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ। দুর দুরান্তের অনেক স্বজনরা কয়েকদিন আগেই নায়র চলে আসে (বেড়াতে আসে) অনুষ্ঠানমালা ও নজরুল গ্রামীনমেলা উপভোগ করতে।

১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের। বর্ধমানের আসানসোলের একটি রুটির দোকানে কাজ করতেন তিনি। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর সিমলা গ্রামের কাজী রফিজউল্লাহ দারোগা কবি নজরুলকে নিয়ে আসেন বাংলাদেশে। সে সময় কাজীর সিমলায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। তিনি প্রতিভাবান নজরুলকে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন দরিরামপুর হাইস্কুল (বর্তমান নজরুল একাডেমীতে)। ত্রিশাল সদর ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের বিচুতিয়া বেপারীর বাড়ীতে জায়গীর থাকার ব্যবস্থা হয় কবির। কবি নজরুলের পদচারনায় ত্রিশাল আজ গৌরবান্বিত। ১৯৬৫ সাল থেকে প্রতি বছর স্থানীয় ভাবে নজরুলের জন্মজয়ন্তী পালন শুরু করে ত্রিশালবাসী। ১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সর্বপ্রথম ত্রিশালে ৭ দিনব্যাপি সরকারি ভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর জাতীয় পর্যায়ে অথবা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিনদিন ব্যাপী নজরুলের জন্মজয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে কাজী রফিজউল্লাহ দারোগা বাড়ীর আঙ্গিনায় নির্মান করা হয়েছে নজরুল পাঠাগার ও জাদুঘর, সংরক্ষন করা হয়েছে নজরুল যে খাটে শয়ন করতেন সেই খাটটি। পৌর শহরের মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে বিচুতিয়া বেপারী বাড়ীর আঙ্গিনায় নির্মিত হয়েছে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র, নজরুল ইনষ্টিটিউট এবং সেমিনার কক্ষ। স্মৃতিকেন্দ্র সংলগ্ন যে পুকুরে গোসল করতেন, মাছ ধরতেন কবি, সেই পুকুর ঘাট পাকা করণসহ একটি মনোরম পরিবেশে রুপান্তরিত করা হয়েছে। বিচুতিয়া বেপারী বাড়ীর অদূরে শুকনি বিলের পাড়ে নির্মিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। শুকনি বিলের পাড়ে যে বটবৃক্ষের নিচে বসে কবি তন্ময় হয়ে বাঁশি বাঁজাতেন তা সংরক্ষিত রয়েছে।

সংরক্ষন করে রাখা হয়েছে নজরুল একাডেমীর (সাবেক দরিরামপুর হাইস্কুল) সপ্তম শ্রেণির ওই কক্ষটি, যে কক্ষে কবি নজরুল অধ্যয়ন করেছেন। কক্ষটির সামনে প্রধান শিক্ষক বিপিন চন্দ্রের স্বরণে লেখা নজরুলের একটি উক্তি মোজাইক করে রাখা হয়েছে। “আমি এক পাড়াগাঁয়ে স্কুল পালান ছেলে, তার উপর পেটে ডুবুরি নামিয়ে দিলেও “ক” অক্ষর খুঁজে পাওয়া যাবে না। স্কুলের হেড মাষ্টারের চেহারা মনে করতেই আজও আমার জল তেষ্টা পেয়ে যায়”।

তিনদিন ব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তীতে অগনিত নজরুল প্রেমী ভক্ত, দেশবরেন্য কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি, নজরুল গবেষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের আগমন ঘটবে ত্রিশালে। লাখো মানুষের পদচারনা ও নজরুল মঞ্চে নজরুল সঙ্গীতের ঝংকারে মূখরিত হয়ে উঠে এ অঞ্চল। তিনদিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নজরুল গ্রামীন মেলা ও বই মেলা উপভোগ করতে বাড়িতে বাড়িতে দুর দুরান্তের স্বজন ও নজরুল ভক্তদের ভিড় জমবে। কবির বাল্যস্মৃতি বিজড়িত দর্শনীয় স্থান গুলো দেখতে ছুটে যাবে কাজীর সিমলা রফিজ উল্লাহ দারোগার বাড়ী, বিচুতিয়া বেপারীর বাড়ী, বাল্যবিদ্যাপিঠ দরিরামপুর হাই স্কুলে। স্কুলের বিশাল মাঠের দক্ষিন পার্শ্বে নির্মিত নজরুল মঞ্চে দেশবরেন্য কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি, নজরুল গবেষকরা আলোচনায় অংশ নেবেন। এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ “নজরুল জন্মজয়ন্তী ও নজরুল গ্রামীণমেলা”র এই প্রানের উৎসবের প্রতিক্ষায় দিনগুনে। কয়েকদিন আগেই দুর দুরান্তের অনেক স্বজনরা নায়র চলে আসে (বেড়াতে আসে) অনুষ্ঠানমালা ও নজরুল গ্রামীনমেলা উপভোগ করতে।

ত্রিশালের বিভিন্ন স্থানে কবির গৌরবগাঁথা স্মৃতিকে ধারন করে কবির নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নজরুল একাডেমী (নজরুলের বাল্য বিদ্যাপিঠ), নজরুল ডিগ্রি কলেজ, নজরুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, দুখুমিয়া বিদ্যানিকেতন, কাজীর সিমলা নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়, নজরুল মেমোরিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নজরুল সেনা স্কুল, দুখু চাইল্ড কেয়ার স্কুল, কবি নজরুল ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন, বিদ্রোহী কবি নজরুল স্মৃতি পাঠাগার, কবি নজরুল স্মৃতি সংসদ, কবি নজরুল কবিতা পরিষদ, দুখুমিয়া থিয়েটার সহ আনাচে কানাচে অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। ত্রিশাল ও ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো ক’দিন আগে থেকেই ব্যস্ত সময় কাটায় নাটক, গান, কবিতা ও নৃত্যের চর্চা নিয়ে। #    






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫২৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই